সুরক্ষা ও নৈতিকতা ছাড়া এআইয়ের ঝুঁকি সুবিধাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে: আইএমএফ প্রধান

By
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন একজন প্রযুক্তি সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবী। সাংবাদিকতা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও জনসংযোগে তাঁর এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সমকাল, কালের কণ্ঠ, কম্পিউটার...
- Editor

উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক কাঠামো নিশ্চিত করা না গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি থেকে পাওয়া সুবিধাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তাঁর মতে, এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে পারে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যর্থ হলে এই প্রযুক্তি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কাও দিতে পারে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। সেখানে এআইয়ের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক প্রভাব, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিটির ব্যবহারে নৈতিক নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

নিয়ন্ত্রণহীন ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির সঙ্গে এআইয়ের তুলনা
দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই প্রযুক্তিকে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া রাতের অন্ধকারে ছুটে চলা ফর্মুলা ওয়ান রেসিং কারের সঙ্গে তুলনা করেন জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এককভাবে সরকারগুলোর পক্ষে এর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা কঠিন।

এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতের নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি সমাজের অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এআই প্রতিষ্ঠান এনথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্কও সাধারণ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতিমালা প্রযুক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।

এআইয়ের সাফল্যেও বাড়তে পারে কর্মসংস্থানের সংকট
এআই প্রযুক্তির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হার্ভার্ডের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দানি রদরিক। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির বিকাশ অর্থনীতির জন্য দুই ধারবিশিষ্ট তলোয়ারের মতো।

এআই প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হলে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিটি আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হলে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ বড় ধরনের আর্থিক সংকটের কারণ হতে পারে।

অর্থাৎ এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহারের যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

Share This Article
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন একজন প্রযুক্তি সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবী। সাংবাদিকতা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও জনসংযোগে তাঁর এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সমকাল, কালের কণ্ঠ, কম্পিউটার জগৎ ও টেকশহরসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, ভোক্তা প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরের সাম্প্রতিক প্রবণতা গুরুত্ব পায়।