ফাইভজি ও এআই প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ে-কোয়ালকমের ঐতিহাসিক পেটেন্ট চুক্তি

By
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন একজন প্রযুক্তি সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবী। সাংবাদিকতা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও জনসংযোগে তাঁর এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সমকাল, কালের কণ্ঠ, কম্পিউটার...
- Editor

ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটিং ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির পেটেন্ট যৌথভাবে ব্যবহারের জন্য একটি বহুবছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চীনের প্রযুক্তি দানব হুয়াওয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোয়ালকম। ফাইভজি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় এই দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মধ্যে এটিই প্রথম ‘ক্রস-লাইসেন্সিং’ বা পারস্পরিক পেটেন্ট বিনিময় চুক্তি।

নতুন এই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি কেবল একে অপরের পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের সুযোগই পাচ্ছে না, বরং হুয়াওয়ের উদ্ভাবিত এআই, কম্পিউটিং ও নেটওয়ার্কিং-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মার্কিন পেটেন্ট সরাসরি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোয়ালকম।

আর্থিক পরিধি ও অনুমোদন
উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির আর্থিক মূল্য গোপন রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেলে পেটেন্ট লাইসেন্সিং খাত থেকে হুয়াওয়ের মোট চুক্তিকৃত আয়ের পরিমাণ ৬৯০ কোটি (৬.৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

তবে ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে আসছে হুয়াওয়ে। ফলে মার্কিন প্রযুক্তি ক্রয় ও পেটেন্ট স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির স্বীকৃতি
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মাঝেও এই চুক্তিকে বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হুয়াওয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা অ্যালান ফ্যান জানান, টানা কয়েক দশকের গবেষণা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ফাইভজি ও মোবাইল যোগাযোগ খাতে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে হুয়াওয়ে। এই চুক্তি তাদের দীর্ঘদিনের উদ্ভাবনী ক্ষমতারই বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

অন্যদিকে কোয়ালকমের প্রযুক্তি লাইসেন্সিং বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হ্যান বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং বিশ্বমঞ্চে ফাইভজি উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নিতেই এই যৌথ সমঝোতা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠানের এই মেলবন্ধন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির অবাধ বিকাশ ও উদ্ভাবনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

Share This Article
বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন একজন প্রযুক্তি সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবী। সাংবাদিকতা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও জনসংযোগে তাঁর এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সমকাল, কালের কণ্ঠ, কম্পিউটার জগৎ ও টেকশহরসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, ভোক্তা প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরের সাম্প্রতিক প্রবণতা গুরুত্ব পায়।