টেক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক পুঁজিবাজারে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবরণী নথিতে দেখা গেছে, গত বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার উপার্জন করেছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি শরতেই শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আইপিওর মাধ্যমে অ্যানথ্রোপিকের সার্বিক বাজারমূল্য দুই লাখ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের বার্ষিক উপার্জনের তুলনায় আমোদেইর এই আয়কে ‘মাঝারিসারি’ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
মূল বেতন ও শেয়ারভিত্তিক মালিকানা
অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও দারিও আমোদেই এবং তাঁর বোন তথা প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েলা আমোদেইর আয়ের সিংহভাগই আসে কোম্পানির শেয়ার ও ‘স্টক অপশন’ সুবিধা থেকে। প্রযুক্তি খাতের অধিকাংশ উদ্যোক্তার মতোই তাঁদের ঘোষিত বার্ষিক মূল বেতন মোট অর্জিত সম্পদের তুলনায় বেশ কম। তবে গত জুলাই মাসে তাঁদের দুজনেরই বার্ষিক মূল বেতন দ্বিগুণ করে ১৪ লাখ ডলার করা হয়েছে।
নথির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ড্যানিয়েলা আমোদেই বেতন ও শেয়ার সুবিধা মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থবিষয়ক কর্মকর্তা (সিএফও) কৃষ্ণা রাও গত বছর প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার ডলার উপার্জনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ারের সুবিধা পেয়েছেন।
শীর্ষ সিইওদের সঙ্গে তুলনা ও দানের মহৎ অঙ্গীকার
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যানথ্রোপিক পূর্ণাঙ্গভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে এবং শেয়ারদর চূড়ান্ত রূপ পেলে আমোদেইর মোট সম্পদের বাস্তব চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে। আলফাবেট কিংবা অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহীদের কাগজে-কলমে ঘোষিত বার্ষিক আয়ের চেয়ে আমোদেইর বর্তমান উপার্জন বেশি হলেও, ওরাকল বা এনভিডিয়ার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের চেয়ে তিনি বেশ পিছিয়ে।
তবে বিপুল অর্জিত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অন্য শতকোটিপতি উদ্যোক্তাদের চেয়ে ভিন্ন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন আমোদেই ভাই-বোন। বিবরণী নথিতে জানানো হয়েছে, আইপিও-পরবর্তী সময়ে নিজদের অর্জিত ব্যক্তিমালিকানাধীন শেয়ারের ৮০ শতাংশই বিভিন্ন দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দারিও, ড্যানিয়েলা এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সহ-প্রতিষ্ঠাতারা।